বাজারে ইবিএলের ক্রেডিট কার্ডের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার ১৩ মার্চ ২০২৫,

ইস্টার্ন ব্যাংক গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ড অফার করছি। আমাদের ক্রেডিট কার্ড চারটি প্রধান পেমেন্ট নেটওয়ার্কে পাওয়া যায় ভিসা, মাস্টারকার্ড, ডাইনার্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ও ইউনিয়নপে ইন্টারন্যাশনাল।
 

ইস্টার্ন ব্যাংক গ্রাহকদের কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড দিচ্ছে?

ইস্টার্ন ব্যাংক গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ড অফার করছি। আমাদের ক্রেডিট কার্ড চারটি প্রধান পেমেন্ট নেটওয়ার্কে পাওয়া যায় ভিসা, মাস্টারকার্ড, ডাইনার্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ও ইউনিয়নপে ইন্টারন্যাশনাল। কার্ডের ক্যাটাগরি ক্ল্যাসিক ও গোল্ড থেকে শুরু করে প্লাটিনাম, টাইটানিয়াম এবং সিগনেচার, ওয়ার্ল্ড ও ইনফিনিটির মতো প্রিমিয়াম ক্যাটাগরিতে বিস্তৃত। এছাড়া আমরা বিভিন্ন গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে কো-ব্র্যান্ড কার্ডও অফার করি।

বাজারে ইস্টার্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। এর কারণ কী?

বাজারে ইবিএলের ভিসা, মাস্টারকার্ড, ইউনিয়নপে ইন্টারন্যাশনাল ও ডাইনার্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের পেমেন্ট নেটওয়ার্ক গ্রাহকের প্রয়োজন মেটায়। আমাদের দারুণ সেবা, যার মাধ্যমে গ্রাহক দেশে ও বিদেশে লেনদেন সহজভাবে করতে পারেন বলে ইবিএল কার্ড গ্রাহকের পছন্দের। এছাড়া আমাদের বিশেষ প্রপোজিশন এবং বাংলাদেশের সেরা লাউঞ্জ, স্কাইলাউঞ্জ সুবিধাও রয়েছে। বাজারে ইবিএল ক্রেডিট কার্ডের চাহিদা বাড়ছে।

আপনাদের ক্রেডিট কার্ড কেন অনন্য?

আমি আগেই বলেছি, ইবিএল ক্রেডিট কার্ডগুলো তাদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা, বাজারে শীর্ষস্থানীয় রিওয়ার্ড ও এক্সক্লুসিভ প্রিভিলেজের জন্য আলাদা। আমাদের কার্ডে প্রতি লেনদেনে ইবিএল রিওয়ার্ড পয়েন্ট (স্কাইকয়েন) পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে দেশে ও বিদেশে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ অ্যাকসেস, এক্সক্লুসিভ ডিসকাউন্ট, নমনীয় পেমেন্ট অপশন এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা এর সবই পাওয়া যায় টপ-টিয়ার সিকিউরিটিসহ।

আমরা উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিচ্ছি। বিশেষ কো-ব্র্যান্ডেড কার্ড এবং পণ্য যেমন ওয়্যারইবিএল (WEAREBL) এবং ইবিএল স্কাইব্যাংকিং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজ ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছি। ইবিএলের সঙ্গে গ্রাহক শুধু একটি কার্ড নয়, একটি নিখুঁত আর্থিক অভিজ্ঞতা পান।

আপনাদের কার্ডকে আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

ইবিএল ক্রেডিট কার্ডকে আরো জনপ্রিয় করতে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলে মনোযোগ দিচ্ছি। আগে যে ফিচার ও গ্রাহক সুবিধা নিয়ে কথা বলেছি, তার পাশাপাশি আমরা গ্রাহকের প্রয়োজন বুঝে স্ট্রাটেজিক কো-ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ তৈরি করছি, যাতে ইবিএল ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারকারী এক্সক্লুসিভ সুবিধা পায়। ইবিএল-দারাজ এবং ইবিএল-শেয়ারট্রিপ কো-ব্র্যান্ড কার্ডগুলো সম্প্রতি গ্রাহকের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কার্ড হয়ে উঠেছে, যেগুলোয় কো-ব্র্যান্ড কার্ডহোল্ডারদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

সুদহার বেড়ে যাওয়ার বিরূপ প্রভাব ক্রেডিট কার্ডের বাজারে কেমন পড়েছে?

২০২৫ সালের শুরু থেকে ২৫ শতাংশ বার্ষিক সুদহার কার্যকর হয়েছে; তবে এখনো ক্রেডিট কার্ডের আউটস্ট্যান্ডিং পরিমাণে বড় কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। আমি এ স্থিতিশীলতাকে গ্রাহকের উপকারিতা হিসেবে দেখছি, কারণ তাদের কমপক্ষে ১৫-৪৫ দিন পর্যন্ত সুদমুক্ত সময় পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন ইএমআই সুবিধাও রয়েছে। প্রচলিত ঋণের বিপরীতে ক্রেডিট কার্ডধারীদের সময়মতো সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো সুদ চার্জ ছাড়াই ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের মানুষ এখনো নগদ লেনদেনে বেশি অভ্যস্ত। এ অভ্যাস পরিবর্তন করা যায় কীভাবে?

বাংলাদেশে নগদ থেকে ডিজিটাল পেমেন্টে পরিবর্তন আনতে আমাদের একটি বিস্তৃত পন্থা প্রয়োজন। গ্রাহককে ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধাগুলো সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড ও ডিসকাউন্টের মতো প্রণোদনা দেয়া গ্রাহককে এটি গ্রহণে সাহায্য করতে পারে। পিওএস মেশিন, কিউআর কোড ও মোবাইল অ্যাপ মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা একীভূত করে পেমেন্ট গ্রহণের পরিসর বাড়ানো যাবে। ডিজিটাল পেমেন্টের নিরাপত্তা ও সুবিধার গুরুত্ব তুলে ধরলে গ্রাহকের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হবে এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহারে উৎসাহিত হবেন।

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রাহককে কী ধরনের অফার দিচ্ছেন?

প্রতি বছরের মতো এ বছরও ইবিএল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক ও ইএমআই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। অফারগুলোর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় পোশাক ও ফুটওয়্যার ব্র্যান্ড এবং গ্রোসারি শপিংয়ে ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট। প্লাটিনাম ও তার ওপরের ক্রেডিট কার্ডধারীরা উইকেন্ড গ্রোসারি শপিংয়ের জন্য বোনাস রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাবেন। এছাড়া রমজান মাসে ফাইভস্টার হোটেল চেইনগুলোয় ফ্রি বাই-ওয়ান-গেট-ওয়ান ডাইনিং অফার এবং নির্দিষ্ট ইএমআই মার্চেন্টদের মাধ্যমে ক্যাশব্যাক অফারও রয়েছে। অনলাইন স্টোর, ফুড ডেলিভারি, ট্রাভেল এজেন্সি ও হোটেল বুকিং সাইটগুলোয় বিশেষ ডিসকাউন্টও পাওয়া যাবে।

রিটার্নধারীদের তুলনায় দেশে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা খুবই কম। এটি কীভাবে বাড়ানো যায়?

টিআইএনের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডধারীর সংখ্যা কম হওয়ার বেশকিছু কারণ রয়েছে, যেমন সীমিত আর্থিক সচেতনতা ও পরিষ্কার ক্রেডিট হিস্ট্রি প্রাপ্তির মতো কঠিন যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য। দেশে এখনো নগদ লেনদেনকে বেশি পছন্দ করা হয় এবং অনেক মানুষ ক্রেডিট কার্ডের বদলে মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করছে। এছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবার সীমিত প্রবেশাধিকারও এ নিম্ন গ্রহণের হার সৃষ্টি করছে। কারণ বেশির ভাগ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী এখনো শুধু বড় শহরাঞ্চলেই বসবাস করেন।

দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো এখনো ডিজিটাল লেনদেন উপযোগী নয়। এক্ষেত্রে সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করার জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (এনপিএসবি), টাকাপে কার্ড ও কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ট্রানজেকশনের প্রচারের মাধ্যমে অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রাহক ও বিক্রেতাদের জন্য লেনদেন ফি কমানোর বিভিন্ন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এছাড়া যুগোপযোগী সাইবার সিকিউরিটি নীতিমালা গ্রাহকের বিশ্বাস তৈরি করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনসাধারণকে ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করার জন্য গণসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হলে এটি আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।

 

Link: https://bonikbarta.com/magazine/utshob2025/XOQlsv409WZn0Rqb